উৎসাহ-উদ্দীপনায় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় বিশ্বকর্মার আরাধনা
দুর্গাপুর: সারা রাজ্যের সঙ্গে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরেও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হলো দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পুজো। একইভাবে সেল-এর অধীনস্থ দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা (ডিএসপি)-র বিভিন্ন বিভাগেও মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকর্মা পুজো।

যে কারখানায় ৩৬৫ দিন ধরে মূলত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মেশিনের শব্দ শোনা যায়, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সেই শিল্পাঞ্চলেই শোনা গেল ঢাকের আওয়াজ। পুজোকে কেন্দ্র করে ডিএসপির কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বিভাগে পুজোর পাশাপাশি কোথাও কোথাও পংক্তিভোজনেরও আয়োজন করা হয়।

বর্তমানে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমলেও বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজনে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। কারখানার প্রায় সমস্ত বিভাগেই ঐতিহ্য ও উৎসাহের সঙ্গে পুজোর আয়োজন করা হয়।
আইএনটিইউসি অনুমোদিত হিন্দুস্থান স্টিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (আহ্বায়ক) রজত দীক্ষিতের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা নিরাপত্তা বিধি মেনে হেলমেট পরে সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন বিভাগে পুজো পরিক্রমায় অংশ নেন। সিইএম, হেভি মেইনটেন্যান্স, কোক ওভেন, বিওএফ (ইলেকট্রিক্যাল), হুইল অ্যান্ড অ্যাক্সেল প্ল্যান্ট, প্ল্যান্ট গ্যারেজ, এ-জোন মেইনটেন্যান্স-সহ বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে রজত দীক্ষিত কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হন এবং বিশ্বকর্মা প্রতিমা দর্শন করেন।

রজত দীক্ষিত বলেন, একসময় বিশ্বকর্মা পুজোকে ঘিরে গোটা শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যেত। বর্তমানে সেই পরিবেশ অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। তবে প্রতি বছরের মতো এ বছরও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রায় সব বিভাগেই উৎসাহের সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজোকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার কাছে কারখানার উৎপাদন, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার প্রার্থনা করেছেন।
What's Your Reaction?